চার্লস কোরিয়ার স্মরণে অনুষ্ঠিত হলো ষষ্ঠম বার্ষিক মেমোরিয়াল লেকচার

ওয়েব ডেস্ক; কলকাতা, ১৭জুলাই : প্রতি বছরের মত এবছরও অম্বুজা নেওটিয়া গত ১৫ই জুলাই শনিবার, আয়োজন করে আন্তর্জাতিক আর্কিটেক্ট চার্লস কোরিয়ার স্মরণে ষষ্ঠম বার্ষিক মেমোরিয়াল লেকচার।

এই অনুষ্ঠানে দুই প্রধান বক্তা ছিলেন মুম্বাই-এর প্রসিধ্য আর্কিটেক্ট বৃন্দা সোমায়া এবং কাঠমান্ডু, নেপালের প্রখ্যাত আর্কিটেক্ট বিভূতি মান সিংহ।

বিভূতি মান সিংহ কাঠমান্ডুতে অবস্থিত টেকনিক্যাল ইন্টারফেস’ সংস্থার প্রধান আর্কিটেক্ট। তিনি তাঁর ৫০ বছরের অভিজ্ঞতা দিয়ে নেপালের ঐতিহ্যকে ভিত্তি করে বহু স্থাপত্য নির্মাণ করেছেন। ওনার কাজের ধরণে কসমোলজির উপর দক্ষতা, সিম্বলিজম এবং সংস্কৃতির প্রতি আগ্রহ প্রকাশ পায়।

বিভূতি মান সিং ১৯৭২ সালে লাহোরের ওয়েস্ট পাকিস্তান ইঞ্জিনিয়ারিং এবং টেকনোলজি ইউনিভার্সিটি থেকে স্নাতক প্রাপ্ত করে, জাপান থেকে স্নাতকোত্তর লাভ করার পর, কিছু বছর নেপাল সরকারের জন্য কাজ করে, শেষে ১৯৭৯ সালে নিজের আর্কিটেকচার সংস্থা শুরু করেন।

বৃন্দা সোমায়া বর্তমানে মুম্বাইয়ের সংস্থা সোমায়া অ্যান্ড কলপ্পা কনসাল্ট্যান্টস (এসএনকে) – র প্রধান আর্কিটেক্ট। গত ৪০ বছরের কর্মজীবনে উনি নগর সংরক্ষনশীল কাজ দিয়ে নিজের স্থান প্রতিষ্ঠিত করেছেন। ওনার কাজে উন্নয়ন ও ইতিহাসের সমতা ও সৃজনশীলতা প্রকাশ পায় । যেমন ভূকম্পে বিধ্যস্ত গ্রামগুলির পুনর্নির্মান এবং আঠারোশো খৃষ্টাব্দের ক্যাথেড্রালের পুনস্থাপন তার এই চিন্তারই প্রতিচ্ছবি।

বৃন্দা সোমায়া মুম্বাই ইউনিভার্সিটি থেকে আর্কিটেকচার নিয়ে পড়াশোনা করে পরবর্তীকালে অ্যামেরিকার নর্থাম্পটন-এর স্মিথ কলেজ থেকে স্নাতকোত্তর এবং ডক্টরেট ডিগ্রী প্রাপ্ত করেন। তারপর ১৯৭৮ সালে, তিনি মুম্বাই-এ সোমায়া অ্যান্ড কলপ্পা কনসাল্ট্যান্টস (এসএনকে)-এর স্থাপনা করেন।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত অম্বুজা নিওটিয়ার চেয়ারম্যান, হর্ষবর্ধন নেওটিয়া বলেন-“চার্লস কোরিয়ার চিন্তাধারা ও দৃষ্টিকোণ শুধু ওনার কাজেই নয়, বরং নির্মাণ, সমাজ এবং পরিবেশকে একত্রিত করার সাফল্যের প্রচেষ্টাতেও। উনি বিশ্বাস করতেন যে আধুনিক প্রযুক্তির মোড়োকেও পরিবেশগত ও সাংস্কৃতিক মূল্যে দিয়ে উৎকৃষ্ট মানের নির্মাণ গড়া সম্ভব। ওনার সৃষ্টি, সিটি সেন্টার, সল্টলেক এই মনোভাবনার দৃষ্টান্ত, যা বর্তমানের আর্কিটেক্টদের কাছে এক

অন্যতম অনুপ্রেরণা।

এই উপলক্ষে, চার্লস কোরিয়া মেমোরিয়াল লেকচারের প্রধান আয়োজক, আশিস আচার্য বলেন, “আর্কিটেকচারের কথা আসলেই, আমরা, অতীত ও ভবিষ্যৎ, শরীর এবং আত্মা, পার্থিব ও অপার্থিব বিষয়গুলোর মধ্যে সামঞ্জস্য খোঁজার চেষ্টা করি। অচেনা পথে, অজানার সন্ধান পাওয়াই, একটি নায়কের এগিয়ে যাওয়ার গল্পকে অন্য মাত্রা দেয়। স্থাপত্যশিল্পের রূপকথায় জড়িয়ে আছে ইতিহাস, ঐতিহ্য, উদ্ভাবনা ও আধুনিক প্রযুক্তি যা একটি নির্মাণকে বানায় অমূল্য ও অতুলনীয়। এদিন বৃন্দা সোমায়া এবং বিভুতি মান সিং-এর পরিবেশনার মধ্যে দিয়ে সেই বিশ্বাস আরও অটুট হল।

২০১৬ থেকে শুরু হওয়া এই মেমোরিয়াল লেকচারে আসা মাননীয় বক্তাদের তালিকায় এদিন বৃন্দা সোমায়া ও বিভূতি মান সিং-ও যুক্ত হলেন। পূর্ববর্তী বক্তাদের মধ্যে ছিলেন শ্রীলঙ্কার সি.অঞ্জলেন্দ্রান, প্যারাগুয়ের সোলানো বেনিটেজ, সিঙ্গাপুরের রিচার্ড হ্যাসেল, বাংলাদেশের কাশেফ চৌধুরী, চীন-যুক্তরাষ্ট্রের ইউং হো চ্যাং এবং ভারতের থেকে ছিলেন কে.টি রবীন্দ্রান, রাহুল মেহরোত্রা, কামাল হাডকার, উদয় জোশি ও সঞ্জয় মোহে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.